আন্তঃজেলা চোর হলে ১৫১ ধারায় চালান কেন? ধুনটে পুলিশের নাটকীয় পদক্ষেপ
ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : জনতার দৃষ্টি
আপডেট: 4 weeks ago

গণমাধ্যমে ‘চোরচক্রের সদস্য’, আদালতে নেই কোনো মামলা: নেপথ্যে কি লেনদেন।
বগুড়ার ধুনটে মোবাইল শোরুমের তালা কেটে ৯৪টি হ্যান্ডসেট চুরির পর বাসে পালিয়ে যাওয়ার সময় যমুনা সেতু এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার—পুলিশের নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় সাফল্য। তবে চোরচক্রের স্থানীয় ও আন্তঃজেলা নেটওয়ার্কের তথ্য অনুসন্ধানের প্রক্রিয়ায় পুলিশের সাম্প্রতিক এক পদক্ষেপে সেই সাফল্য এখন চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনার পর গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আত্মীয় মোস্তাক ও বাবুল চৌধুরী থানায় তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এলে তাঁদের আটক করে পুলিশ। তৎকালীন প্রচারিত বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ দাবি করেছিল আটক দুজন আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য এবং চুরি হওয়া ফোন ঢাকায় বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন।
তবে ঘটনার মোড় ঘোরে পরদিন, যখন পুলিশ গণমাধ্যমে ‘আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য’ হিসেবে পরিচয় করানো ওই দুজনকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (অপরাধ প্রতিরোধমূলক ধারা) চালান দেয়। এর পরদিনই তাঁরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে যান।
একই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের দুই রকম তথ্যে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হয়েছে:
আদালতে দেওয়া প্রতিবেদন: ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি আসামি চালানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ১ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে মোস্তাক ও বাবুল ধুনটের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং রাত ১২টার পর পুলিশ দেখে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়।
প্রচারিত বক্তব্য: আটক করার পরপরই থানার তরফে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল, আসামিরা থানায় গ্রেপ্তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এলে সেখান থেকেই তাঁদের আটক করা হয়।
কোন বক্তব্যটি সত্য—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। যদি তাঁরা সত্যিই আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্যই হয়ে থাকেন, তবে কেন তাঁদের চুরির মূল মামলায় আসামি না করে জামিনযোগ্য ১৫১ ধারায় চালান দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে দেওয়া হলো?
এর মাঝেই সামনে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ। থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, ১৫১ ধারায় চালান দেওয়ার বিনিময়ে এক আসামির কাছ থেকে ৭০ হাজার এবং অপরজনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু পুলিশের ভাবমূর্তি নয়, বরং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকেই মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে আসামিদের পিসিপিআর (পূর্বপরিচয় ও রেকডর্ড) যাচাইয়ে। গণমাধ্যমের কাছে যাদের ‘আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য’ হিসেবে প্রচার করা হলো, দেশের কোনো থানাতেই তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বে চুরির তো দূরের কথা, কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
একটি বড় চুরির ঘটনায় পুলিশের তাত্ক্ষণিক তৎপরতা ও মালামাল উদ্ধার যেখানে প্রশংসিত হচ্ছিল, সেখানে প্রক্রিয়াগত এই অসঙ্গতি ও বাণিজ্যের অভিযোগ মূল মামলার সুষ্ঠু তদন্তকে আড়াল করছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন অনেকেই।
সূত্র - Gonesh Dash Bogra
সভাপতি- সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়া।
এবং
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক আজকের পত্রিকা - ঢাকা






